Breaking News

আলোকিত কিশোরগঞ্জ

মহর আলী, স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশের মধ্য অঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা বিভাগের একটি জেলা কিশোরগঞ্জ।
উপজেলা সংখ্যা অনুসারে ও জেলাটি একটি এ শ্রেনি ভুক্ত জেলা। এই জেলাটির ব্যান্ড নাম হলো উজান ভাটির মিলিত দ্বারা নদী হাওর মাছে ভরা, তা-ছাড়া ও এই জেলাটি ঢাকা বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তর জেলা।

হাওড় অঞ্চলের জন্য কিশোরগঞ্জ বিখ্যাত, ষষ্ঠম শতকে ৩২ এর বাসিন্দা কৃষ্ণদাস প্রমাণিকের ছেলে নন্দন কুমার ব্রহ্মপুত্র নদী তীরে একটি গঞ্জ প্রতিষ্টা করেন, এই গঞ্জ থেকেই ক্রমান্বয়ে কিশোরগঞ্জের নামকরণ করা হয়।
এ জেলার উত্তরে নেত্রকোনা, পশ্চিমে গাজীপুর ময়মনসিংহ দক্ষিনে নরসিংদী পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হবিগঞ্জ রয়েছে
কিশোরগঞ্জের ভৌগলিক আয়তন প্রায় ২৬৮৯বর্গ কিলোমিটার কিশোরগঞ্জ উপজেলা রয়েছে ১৩ টি, অষ্টগ্রাম, মিটামইন, ইটনা, নিকলী,কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর,কিশোরগঞ্জ সদর, তাড়াইল, কুলিয়ারচর, ভৈরব,হোসেন পুর,করিমগঞ্জ,
এছাড়াও এ জেলাতে ৮টি পৌরসভা ও ইউনিয়ন রয়েছে ১০৮টি।এছাড়াও ঢাকা থেকে বাস ও রেল পথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা আছে।

এ জেলাতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আল জামিয়াতুল ইমদাতুল মাদ্রাসা,শহীদ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ, পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ , হগতনগন এ ইউ কামিল মাদ্রাসা, জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আরো অনেক।

কিশোরগঞ্জ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নদী, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, নরসন্দা, মেঘনা, কালোনী, ধনু, বাউরী ও ধুয়াউত্তরা ইত্যাদি। কিশোরগঞ্জের অর্থনীতি মূলত হাওয়ার উপর আত্ম নির্ভরশীল। এ জেলায় যেসব ফসল উৎপাদিত হয়, ধান,পাট,শাকসবজি, উৎপাদিত ফসল রপ্তানি হয়। ভৈরবে জুতা শিল্প বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য। এ জেলাতে দর্শনীয় স্থান রয়েছে, জঙ্গলবাড়ি দুর্গা, অনুসন্ধান বলছে, ১৮৯৭ সালে ইসাখা জঙ্গলবাড়ি স্থাপনা ভূমিকম্পে কিছুটা আন্তিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল,ইতিহাস, বিদ্যা, আবুল ফজল, রচিত আকবরনামা গ্রন্থে সমস্ত গ্রামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এটি ছিল অহনশাসনের রাজধানী ১৯৩৮ সালে আকবররা যুদ্ধ করে অঞ্চলটি দখল করে নেই,১৯৮০ সালে বারুভুয়াদের প্রধান ঈশাখা মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কে পরাজিত করেন। শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। কিশোরগঞ্জ শহর উপজেলার পূর্বপ্রান্তে ৬,৬১একর জমির উপরে অবস্থিত, বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তর ঈদগার ময়দান, প্রতি বৎসর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান গন।শহীদি মসজিদ, ও পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে অত্যাধুনিক ভাবেও মনোরম পরিবেশ নির্মিত দুটি মসজিদ।

এই মসজিদগুলো ইতিহাসের পাতায় এক বিরল দৃষ্টান্ত। চন্দ্রাবতী শ্রীব মন্দির,১৬০০শতকে প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতি বিজলিত হাজার হাজার পূজারী পূজা করে শিব মন্দিরে। দিল্লির আখড়া মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নির্মাণ করেন এটি মিঠামইন উপজেলায় অবস্থিত। মানব বাবুর জমিদার বাড়ির হোসেনপুর উপজেলায় অবস্থিত, ১৯০৪ সালে জমিদারদের পতন হলে ব্রিটিশ জ্যপির কাছ থেকে কিনে নেই গাঙ্গালিয়া পৃথিনাথ চক্রবর্তী, জানা যায় ব্রিটিশ জ্যপি এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন ।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু,সড়ক ও জন পথ মন্ত্রণালয়ে ভৈরব হতে আশুগঞ্জ এই বীজটি দেশ ছেড়ে বিদেশেও আলোচিত
এই ব্রিজে দাঁড়িয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জেলেদের কলকাকলী স্বচক্ষে উপভোগ করা যায়।তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ভৈরব সেতু নামে পরিচিত। ১০০বৎসর আগে নির্মিত,তালগাংগা জমিদার বাড়ি এটি তাড়াইল উপজেলায় অবস্থিত।
নেকলী বেড়িবাদ, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার এই স্পট থেকে টুরিস্ট স্পট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য গুণীজন
শরৎ রঞ্জন রায় ক্রিকেটার ডব্লিউ জিসান নামে ডাকা হয়, আতাহার আলী ইসলামী রাজনীতিবিদ ও পন্ডিত, মোঃ আব্দুল হামিদ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম রাষ্ট্রপতি, বীজ বংশীয় দাস, প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতি,অপেন দ্র কুমার রায় চলচ্চিত্র নাট্যকার, সুকুমার রায়, ফরিদ উদ্দিন মাসুদ ইসলামী চিন্তাবিদ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ।

মনির উদ্দিন ফারসি বিশিষ্ট কাব্য গ্রন্থ লেখক। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালে অস্থায়ী সরকার গঠন করেছিলেন। জিলু রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। আইভি রহমান সাবেক সংসদ সদস্য ও নারী নেত্রী। মোজাম্মেল হক ২০ তম বিচারপতি, ওসমান ফারুক সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সৈয়দ আশরাফ সাবেক জনপ্রসন মন্ত্রী, সত্যজিৎ রায় ভারতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব, নূর মোহাম্মদ সাবেক আই,জি,বি ও কিশোরগঞ্জের ২ আসনের এমপি, আব্দুল মোমেন খান সাবেক পাকিস্তানের গভর্নর, ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলা সিনেমার নায়ক, ও মাহফুজ সাদিক চিত্রনায়ক প্রমূখ।আরো অসংখ্য গুণীজন কিশোরগঞ্জ জেলাটি কে আলোকিত করেছেন।

Print This Post

About sayful

Check Also

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস কাল

আগামীকাল ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ …

Leave a Reply